International Journal of Contemporary Research In Multidisciplinary, 2026;5(2):147-150
আচার্য মনু বিরচিত মনুসংহিতা অনুসারে খাদ্যের বিধি নিষেধ - একটি সমীক্ষাত্মক অধ্যয়ন
Author Name: মালবিকা দোলুই;
Abstract
শরীর ও মনের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য অতি প্রাচীন ও প্রামাণিক গ্রন্থ ভগবান মনু রচিত মনুসংহিতা (পঞ্চম অধ্যায়) অনুসারে খাদ্য বিধি মূলক পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা এবং নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মনুসংহিতা শারীরিক এবং আত্মিক উন্নতির জন্য সুষম ও পবিত্র খাদ্যগ্রহনের নীতি অনুসরণ করে। পঞ্চম অধ্যায়ে ভগবান মনু আমিষ খাদ্য (মাছ-মাংস) বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন, তা বিশেষ করে নির্দিষ্ট অশৌচ অবস্থায়। মনুসংহিতায় আহারের সময়কাল এবং শুদ্ধ খাদ্য এবং অশুদ্ধ খাবার (যেমন- পেঁয়াজ, রসুন, মাটির নিচের ফসল) বর্জনের নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত শারীরিক ও মানসিক শুচিতা রক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
সঠিক আচরণকারী ও সুযোগ্য ব্যক্তি যেমন আশেপাশের ব্যক্তি ও পরিবেশকে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে, তেমনি নিজেও পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে সুস্থভাবে অনেকদিন। তাই আমাদের মনুসংহিতা অনুসারে ভক্ষ্য (যা খাওয়া উচিত) এবং অভক্ষ্য (যা খাওয়া উচিত নয়) এবং অন্নপানের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ম রয়েছে।
'মনুসংহিতা' যজ্ঞের বাইরের পশুবধকে পাপ বা নিষিদ্ধ বলে গণ্য করে এবং অহিংসার আদর্শকে সমর্থন করে।
অন্নপান বিষয়ে তিনি (ভগবান মনু) সচেতন করে বলেন যে কখনোই কেশকীট সমন্বিত অন্ন ভোজন করা উচিত নয়।
আবার গরু, কুকুর ও বিভিন্ন পশুর মুখ দেওয়া অন্ন ভোজনও তিনি নিষেধ করে বলেছেন -- "…….. ন ভুঞ্জীত কদাচন কেশকীটাবপন্নঞ্চ পদাপৃষ্টঞ্চ কামতঃ।"
শরীরকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং যুক্তিযুক্ত হল মনুসংহিতায় উল্লেখিত খাদ্য গ্রহণের বিধি।
বিভিন্ন পাখি যেমন— চিল, পায়রা, চড়াই, শকুন, জলচর পাখীবিশেষ, হাঁস, টিট্টিভ, চক্রবাক, সারস প্রভৃতি পক্ষীর মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন ভগবান মনু।
গ্রাম্য শুকর, ব্যাঙের ছাতা, রসুন, পেঁয়াজ, গ্রাম্য কুকুট, গাজর— এই ছয়টি জ্ঞানপূর্বক যে ভোজন করে তাকে কৃচ্ছ্র-সান্তপন ব্রতের মাধ্যমে শুদ্ধ হতে হবে।
এটি নিরামিষভোজকে শ্রেষ্ঠ মনে করলেও যজ্ঞের উদ্দেশ্যে মদ্যপানের নিয়মাবলী ও আমিষ গ্রহণ সংজ্ঞায়িত করেছে।
এই গ্রন্থটি পবিত্রতা, স্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ গুণ) বজায় রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
এমনকি বর্তমান সমাজে মনুসংহিতার প্রভাব যেমন নিরামিষভোজী প্রবণতা, গো-মাংসের নিষেধাজ্ঞা, বর্ণভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় উৎসব, অশৌচ বিধি, সাত্ত্বিক ও বিশুদ্ধ আহার, নীতিগত খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
আধুনিক হিন্দুরা প্রায়শই মনুসংহিতায় এইসব বিধিনিষেধ অমান্য বা উপেক্ষা করে, কিন্তু কিছু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির কাছে এই খাদ্যবিধি নিয়ম পালনগুলি আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি উপায় এবং আত্মশুদ্ধির উন্মেষ ঘটে।
Keywords
সাত্ত্বিক আহার, বৈবস্বত, গ্রাম্য কুক্কুট, টিট্টিভ, কৃচ্ছ্র সান্তপন ব্রত।.